বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · সত্য • সাহস • সংবাদ📍 আপনার এলাকা: রাজশাহী
রাজশাহী নিউজ
সর্বশেষরাজশাহী ও বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ জানতে সঙ্গে থাকুন

২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা গোল কাবরালের বাঁকানো রকেট-শট

২০২৬ বিশ্বকাপের টুর্নামেন্টের সেরা গোল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে কেপ ভার্দের সিডনি কাবরালের বাঁকানো শটের গোল। ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে ভক্তদের ভোটে তিনি শীর্ষে।

আর্জেন্টিনার জালে কাবরালের বাঁকানো শটই বিশ্বকাপের সেরা গোল
বাঁ প্রান্ত থেকে ডান পায়ে বাঁকানো রকেট–শটে আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠিয়েছিলেন কেপ ভার্দের সিডনি কাবরাল। বিশ্বকাপ শেষে দেখা যায়, সেই গোলটি শুধু অন্যতম সেরা নয়—ভোটাভুটিতে শেষ ষোলোর ম্যাচটিতেই টুর্নামেন্টের সেরা গোল হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে ভক্তদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে কাবরালের গোল। এতে কেপ ভার্দের অভিষেক বিশ্বকাপ আরও বেশি স্মরণীয় হয়ে ওঠে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কঙ্গোর বিপক্ষে উজবেকিস্তানের এলদর সমুরদোভের গোল। তৃতীয় স্থানে আছে মরক্কোর বিপক্ষে হাইতির উইলসন ইসিদোরের গোল। আয়তন বিচারে বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম এবং জনসংখ্যায় তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে। ১৯ জুলাই পর্দা নামা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মতো দলের বিপক্ষে ড্র করে অপরাজিত থেকে তারা শেষ ৩২-এর রাউন্ডে যায়। সেখানে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে স্বপ্নযাত্রা থামলেও ম্যাচে কাবরালের সেই রকেট-শট ইতিহাসে স্থান করে নেয়। নকআউট পর্বের ওই ম্যাচের আগে নেদারল্যান্ডসের রটারডামে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার বলেছিলেন, ‘আশা করি মেসির পাশে দাঁড়িয়ে কিছু ছবি তুলতে পারব।’ আলোকচিত্রীরা তাঁর ইচ্ছা পূরণ করেন। এরপর তিনি ম্যাচের পর নিজের গোল প্রসঙ্গে লিখে ফেলেন একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। গোলের কৌশল বর্ণনা দিতে গিয়ে কাবরাল বলেন, তিনি প্রতিপক্ষকে ড্রিবল করে কাটিয়ে গিয়ে সামনে ফাঁকা জায়গা পান এবং তখনই শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দুই পায়েই ভালো শট নিতে পারেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফাঁকা জায়গা দেখে ওপরের কোণটার দিকে লক্ষ্য স্থির করেন এবং সুন্দরভাবে বলে শট নেন। গোল হওয়ার পরের মুহূর্তে তাঁর বিশ্বাস না হওয়াও জানান তিনি—সতীর্থদের চিৎকার, মাথায় হাত দিয়ে উল্লাস ও নিজের দৌড়ের মধ্য দিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন যে বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনি একটি বড় গোল করেছেন। ফুটবলার হিসেবে কাবরালের অর্জন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বেঞ্জামিন পাভারের পর দ্বিতীয় ফুলব্যাক হিসেবে তিনি সেরা গোলের খেতাব পান। ২৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারকে যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফুলব্যাক মার্সেলোও। কাবরাল জানান, মার্সেলো তাঁর কাছে একটি বার্তা দেন এবং টুর্নামেন্টের সেরা গোল হিসেবে তাঁর গোলটিকেই ভোট দেওয়ার কথা জানান। কাবরালের উত্থানের গল্পটিও তুলে ধরা হয়—মাত্র তিন বছর আগে জার্মানির পঞ্চম বিভাগের ক্লাবে তিনি খেলতেন, যেখানে ঘরের জানালায় পর্দার বদলে পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার করা হতো। এরপর তিনি গত জুনে পর্তুগালের বেনফিকায় যোগ দেন, পরে তুরস্কের ক্লাব ত্রাবজোনোস্পার হয়ে সর্বশেষ বিশ্বকাপের মহামঞ্চে টুর্নামেন্টের সেরা গোলের স্বীকৃতি পান।