বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · সত্য • সাহস • সংবাদ📍 আপনার এলাকা: রাজশাহী
রাজশাহী নিউজ
সর্বশেষরাজশাহী ও বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ জানতে সঙ্গে থাকুন

ভারতে ‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলন: দাবি আদায়ে কী ফল মিলল

ভারতে যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অবস্থান—এসব বিষয় ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ভারতে তেলাপোকাদের আন্দোলন কী অর্জন করল
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলা হয়, কোনো প্রচলিত বিরোধী দল নয়—বরং ‘ছন্নছাড়া তরুণদের’ একটি দল প্রধানমন্ত্রীকে নতি স্বীকারে বাধ্য করেছে। বলা হয়, গত শনিবার কলামটি ছাপাখানায় যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগে রাজি করান। এই শিক্ষামন্ত্রীকে ‘ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থার’ প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তাঁর সরে যাওয়া জরুরি ছিল। তবে সিদ্ধান্তে বিলম্ব হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী একদিক থেকে উপকার করেছেন কি না—এমন ইঙ্গিতও করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নতুন করে ‘কঠোর আইন’-এর কথা ছাড়া আর তেমন কিছু দেওয়া যায়নি। ওই আইন কতটা কঠোর হবে—এটি তিনি একাধিকবার শোনান, কিন্তু তা যথেষ্ট নয় বলে অভিমত দেওয়া হয়েছে। এখানে আরও উল্লেখ করা হয়, বিরোধীদলীয় নেতা বলছেন মোদি ক্ষমতায় আসার আগে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা নাকি বিশ্বজয়ী ছিল—এ দাবি বিভ্রান্তিকর। বলা হয়, যেসব ভারতীয় শিশু বেসরকারি স্কুলে পড়ার সামর্থ্য রাখত না, তারা এমন একটি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ছিল, যা নার্সারি থেকে হাইস্কুল পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে হতাশ করেছে। তথ্য হিসেবে বলা হয়, ভারতের অনেক বড় রাজ্যে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীরা থাকলেও স্কুলের হাল ফেরাতে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখেননি। তাদের মনোযোগ ছিল প্রাচীন ভারতকে মহিমান্বিত করা এবং মোগল আমলকে হেয় করে ইতিহাস নতুন করে লেখার দিকে; পাশাপাশি মোদি ক্ষমতায় আসার পর ভারতের ‘সাফল্য’ জাহির করার বিষয়টিও এসেছে। প্রবন্ধে মূল ফোকাস করা হয় যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আন্দোলন কী অর্জন করেছে—সেই প্রশ্নে। বলা হয়, আন্দোলনটি ভারতের বিভিন্ন শহর ছাড়িয়ে মফস্‌সলেও ছড়িয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহে সংসদে বিশাল পদযাত্রার কয়েক দিন আগে লেখক যন্তর মন্তরে এক দুপুর কাটান এবং সেখানে তরুণদের সঙ্গে কথাও বলেন। বিজেপির প্রভাবশালী ‘বুদ্ধিজীবীরা’ ওই তরুণদের ‘নৈরাজ্যবাদী’ ও ‘অ্যাকটিভিস্ট’ বলে উড়িয়ে দেন—লেখক বলছেন, বাস্তবতা দেখার পর তিনি মনে করেছেন, তাঁদের সে অবস্থান ভুল ছিল। তরুণদের ক্ষোভকে সুনির্দিষ্ট এবং তাদের দাবি আগে থেকেই শোনা উচিত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে জবাবদিহির আকুল আবেদন হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলেও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বুঝতে পারছেন না। এ ছাড়া বলা হয়, যন্তর মন্তরে তরুণদের লক্ষ্য এক ধরনের উন্নত ভারতের স্বপ্ন। তারা ‘বন্দে মাতরম’ ও জাতীয় সংগীত গান—এভাবে সশব্দে জাতীয়তাবাদের বিষয়টি তুলে ধরতে চান, যেন বোঝানো যায় জাতীয়তাবাদের ওপর একচ্ছত্র অধিকার কেবল তাদের প্রতিপক্ষ বা একটি গোষ্ঠীর নয়। লেখায় আরও বলা হয়, হিন্দু তরুণেরা মুসলিম, খ্রিষ্টান ও শিখ—অন্য ধর্মের মানুষদের সঙ্গে একসঙ্গে খাবার ভাগাভাগি করছেন, যা পারস্পরিক সম্প্রীতির দিকটি টেনে আনে। একই সঙ্গে উল্লেখ আছে যে মোদি ক্ষমতায় আসার পর গরু, মন্দির বা ধর্মকে কেন্দ্র করে সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা দেখা গেছে—এমন অভিযোগ আনা হয়। উগ্র জাতীয়তাবাদ বা অতিরিক্ত ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ‘পাকিস্তানি’ বা ‘দেশবিরোধী’ ট্যাগ দেওয়ার কথা বলা হয়। তথাকথিত ‘স্বাধীন’ টিভি চ্যানেলে ‘বিদেশি চক্রান্ত’ নিয়ে প্রচারণার কথাও উল্লেখ আছে। আরও বলা হয়, আইনজীবীদের বক্তব্যে ভারতের ‘উত্থান’ বিশ্বের বড় কোনো শক্তি সহ্য করতে পারবে না—এমন হুঁশিয়ারির প্রসঙ্গ এসেছে; তবে প্রশ্ন তোলা হয়—কোন উত্থান, জীবনমানের উন্নতি হলে কেন হাজার হাজার তরুণ বিক্ষোভে নামবে। লেখায় বলা হয়, গত বারো বছরে নতুন রাস্তা, হাইওয়ে, বন্দর আর বিমানবন্দর তৈরির ফলে মধ্যবিত্তের একটি অংশ কিছুদিনের জন্য বিভ্রান্তিকর স্বস্তিতে ছিল। কিন্তু পরে তারা বুঝতে পারে, এসব অবকাঠামো তাদের ব্যক্তিগত জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। দারিদ্র্যের এক দুষ্টচক্রে আটকে পড়া, চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী বা কম্পিউটার বিজ্ঞানী হওয়ার চেষ্টা এবং পরীক্ষা শেষে চাকরির নতুন চক্র—এসব বিষয়ও উল্লেখ আছে। এ ক্ষেত্রে বলা হয়, বেসরকারি খাতে পর্যাপ্ত যোগ্য হয়ে উঠতে না পারায় সরকারি চাকরির ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়, যা দিন দিন অপ্রতুল হয়ে পড়ছে। সামর্থ্য থাকলে উন্নত বিশ্বে পাড়ি দিয়ে অর্থনৈতিক শরণার্থীতে পরিণত হওয়ার প্রসঙ্গও আসে। লেখক ব্যক্তিগতভাবে আন্দোলনকে সমর্থন জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগেই সিজেপি যেন একটি আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। এতে বিজেপিকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয় যে তারা এমন নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের মুখোমুখি, যারা প্রথাগত সুবিধাবাদী বিরোধী নেতাদের মতো বংশানুক্রমিক অধিকার থেকে আসেনি। শেষে বলা হয়, ভারতের রাজনীতি ও প্রশাসনে তরুণ ও নতুন মুখের প্রয়োজন—যাতে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বনাম ‘হিন্দুত্ব’-এর আবর্ত থেকে বেরিয়ে আসা যায়। পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়, তথাকথিত ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ রাজনীতির সঙ্গে যুক্তরা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কীভাবে রাতারাতি উগ্র সাম্প্রদায়িক হয়ে ওঠেন—এর উদাহরণ হিসেবে এ পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।