বরেন্দ্রের লাল মাটিতে পরীক্ষামূলক আঙ্গুর চাষে সাফল্য
রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের রুক্ষ লাল মাটিতে চলতি মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে আঙ্গুর চাষ শুরু হয়। পর্যাপ্ত সূর্যালোক, জাত নির্বাচন ও সঠিক পরিচর্যায় ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। কয়েকজন কৃষকের সফলতা ও ভালো বাজারদরের কারণে আগ্রহ বাড়ছে।

মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী: রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের রুক্ষ লাল মাটিতে এবার বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত সূর্যালোক, উপযুক্ত জাত নির্বাচন এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এ অঞ্চলে আঙ্গুরের ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। চলতি মৌসুমে পরীক্ষামূলক চাষের উদ্যোগ নিয়েই কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট এক বিঘা দুই কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে আঙ্গুর চাষ করা হয়েছে। প্রথমবারেই আশাব্যঞ্জক ফলন এবং ভালো বাজারমূল্য পাওয়ায় চাষিদের উৎসাহ বেড়েছে।
দেওপাড়া ইউনিয়নের ঈশ্বরীপুর গ্রামের কৃষক মনিরুজ্জামান মনির এক বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে আঙ্গুর চাষ করেন। তিনি বলেন, রুক্ষ মাটিতে আঙ্গুরের এমন ভালো ফলন হওয়ার কথা তিনি ভাবতে পারেননি এবং বাজারেও তিনি ভালো সাড়া পাচ্ছেন। তার মতে, এতে আগামীতে আরও বড় পরিসরে আঙ্গুর চাষের সাহস ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।
এদিকে গোদাগাড়ী পৌর এলাকার আলীপুর গ্রামের কৃষক সাব্বির হোসেন বাড়ির আঙিনার মাত্র দুই কাঠা জমিতে আঙ্গুর চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। তিনি জানান, তার উৎপাদিত আঙ্গুর বাজারে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সাব্বির হোসেন আরও জানান, আঙ্গুর চাষে ভালো লাভ হওয়ায় আগামী মৌসুমে তিনি আরও তিন বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষের জন্য চারা রোপণ করেছেন।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ বলেন, পরীক্ষামূলক চাষে পাওয়া ফলাফল থেকে ধারণা করা যাচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি আঙ্গুর চাষের জন্য যথেষ্ট উপযোগী। তার মতে, প্রথমবারের এই সাফল্য ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষ সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি আরও জানান, কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বরেন্দ্র অঞ্চলে আঙ্গুর চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক বিকল্প কৃষি উদ্যোগে পরিণত হতে পারে।


