চাকরিতে টিকতে না পারার কারণ: দক্ষতার ঘাটতিই মূল
পদ্মাটাইমস ডেস্ক বলছে, গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেও অনেকেই ইন্টারভিউয়ে বাদ পড়া বা চাকরিতে টিকে থাকার মতো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। তাত্ত্বিক শিক্ষার আধিক্য, বাস্তব অভিজ্ঞতার ঘাটতি এবং শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার দূরত্ব—এগুলোই মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। নিয়োগদাতাদের মতে, সবচেয়ে বড় ঘাটতি সফট স্কিল ও টেকনিক্যাল স্কিলে।

পদ্মাটাইমস ডেস্ক জানায়, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েশন শেষ করলেও কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের পর বড় একটি অংশ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। কারও ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ পর্যায়েই বাদ পড়ার ঘটনা ঘটে, আবার কেউ চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে টিকে থাকতে পারেন না।
বিশেষজ্ঞ ও কর্পোরেট খাতের নিয়োগদাতাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এর অন্যতম কারণ হলো তাত্ত্বিক শিক্ষার আধিক্য, বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতার ঘাবতি এবং শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার দূরত্ব। তারা বলছেন, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা এখনও অনেকাংশে পাঠ্যবই ও মুখস্থবিদ্যাভিত্তিক হওয়ায় ডিগ্রি থাকলেও বাস্তব কর্মক্ষেত্রে সমস্যা সমাধান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কাজের চাপ সামলাতে গিয়ে গ্র্যাজুয়েটদের হিমশিম খেতে হয়।
আরও বলা হয়েছে, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম কর্মবাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে যথাযথভাবে হালনাগাদ হচ্ছে না। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো যে ধরনের দক্ষ কর্মী খুঁজছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সেই অনুযায়ী জনবল তৈরি করতে পারছে না।
নিয়োগদাতাদের মতে, গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা যায় দুই ধরনের দক্ষতায়—সফট স্কিল ও টেকনিক্যাল স্কিল। যোগাযোগে দুর্বলতা, সমস্যা সমাধানে অক্ষমতা এবং দলগতভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতার ঘাটতি সফট স্কিলের বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত। অন্যদিকে এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট, পেশাদার ই-মেইল লেখা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে অনেক চাকরিপ্রার্থীর দক্ষতা সীমিত।
এই ঘাটতি কমাতে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে প্রজেক্টভিত্তিক কাজ, কেস স্টাডি এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার আগেই অন্তত ৩ থেকে ৬ মাসের ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জন্যও দিকনির্দেশনা রয়েছে—শুধু ডিগ্রি বা সার্টিফিকেটের ওপর নির্ভর না করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই যোগাযোগ দক্ষতা, আইটি, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং নিজ নিজ বিষয়ের আধুনিক দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দেওয়া দরকার।
এ ছাড়া প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সেন্টার গড়ে তোলার গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সেন্টার শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের প্রস্তুতি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং চাকরির বাজারের চাহিদা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
শেষ পর্যন্ত বলা হয়েছে, একটি ভালো ডিগ্রি চাকরির ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছাতে সাহায্য করলেও চাকরিতে টিকে থাকা নির্ভর করে দক্ষতা, কাজের মান এবং শেখার মানসিকতার ওপর। বর্তমান কর্মবাজারে কেবল সার্টিফিকেট নয়, বাস্তব দক্ষতাই বেশি মূল্য পাচ্ছে।


