বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · সত্য • সাহস • সংবাদ📍 আপনার এলাকা: রাজশাহী
রাজশাহী নিউজ
সর্বশেষরাজশাহী ও বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ জানতে সঙ্গে থাকুন

ডাকসু নেত্রীর ছবিতে রাকসু জিএসের মন্তব্য: সমালোচনায় উত্তাল

ফেসবুকে পাকিস্তানি এক নারীর সঙ্গে ছবি পোস্ট করা ডাকসু নেত্রী উম্মে সালমার পোস্টে ‘নিয়ে আসেন আমার জন্য’ কমেন্ট করার অভিযোগ ওঠে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে। কমেন্টটি ডিলেট করা হলেও স্কিনশট ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

ডাকসু নেত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানি নারীর ছবিতে রাকসু জিএসের মন্তব্য ঘিড়ে তোলপাড়
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি: ফেসবুকে পাকিস্তানি এক নারীর সঙ্গে ছবি পোস্ট করেছেন ডাকসু কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা। ওই পোস্টের মন্তব্য ঘরে ‘নিয়ে আসেন আমার জন্য’ লেখার অভিযোগ উঠে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে। একজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে এমন মন্তব্য করায় ব্যাপক সমালোচনায় পড়েন তিনি। ছাত্রদল আম্মারকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে মানসিক চিকিৎসার দাবি জানায় এবং তিনি জিএস পদের উপযুক্ত নন বলেও মন্তব্য করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সমালোচনার মধ্যে আম্মার তার কমেন্টটি ডিলেট করলেও সামাজিক মাধ্যমে রাকসু জিএসের কমেন্টসহ কয়েকটি স্কিনশট ছড়িয়ে পড়ে। স্কিনশটে দেখা যায়, ডাকসু নেত্রী উম্মে সালমা এক নারীর সঙ্গে ছবি তুলে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল ‘Bangladesh+Pakistan, ঢাকা ইউনিভার্সিটি+পিকিং ইউনিভার্সিটি’। ওই পোস্টে সালাউদ্দিন আম্মার লিখেছেন ‘নিয়ে আসেন আমার জন্য’। সংশ্লিষ্ট কমেন্টে ৯১১টি রিয়াক্ট পড়েছে—এ তথ্য স্কিনশটে উল্লেখ করা হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজনদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তারা বলেন, একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধির ভাষা নারীর প্রতি অসম্মান বা হেয়প্রতিপন্ন করার মতো হতে পারে না এবং এমন মন্তব্য সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফেসবুকে আম্মারের সমালোচনা করে শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাফিউল জীবন লেখেন, নারীদের ‘ভোগের বস্তু’ হিসেবে দেখা হয় কি না—এমন প্রশ্ন তুলে এমন মানসিকতা অস্বাভাবিক নয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ধর্ষণকে উসকে দেয় এমন মন্তব্য সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধির ভাষা নারীর প্রতি অসম্মানজনক হওয়া উচিত নয়। রাবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের সাবেক ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন আবীরও আম্মারকে ‘উন্মাদ’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়ার বিষয়ে বারবার তাদের দিকে আঙুল গেছে। আবীর জানান, ডাকসু-রাকসুর মধ্যে যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক—সেখানে নেত্রীরাই নিরাপদ না হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, আম্মারের আচরণ সাইবার বুলিং এবং নারীদের অসম্মানের সঙ্গে সম্পর্কিত। আম্মারকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে জিএস পদের উপযুক্ত নয় বলে দাবি জানিয়ে শেখ নূর উদ্দীন আবীর বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার কারণে পুরো বাংলাদেশে কলঙ্কিত। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন দ্রুত তার মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে আম্মারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানান। ডাকসু নেত্রীর পোস্টে করা আম্মারের কমেন্টের একটি স্কিনশট শেয়ার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়টির বনিকবার্তা প্রতিনিধি মো. মোহাইমিনুল ইসলাম লেখেন, নারীর নিরাপত্তা চেয়ে ঝটিকা মিছিলের সঙ্গে কমেন্টের ধরন অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কোথায় কী কমেন্ট করা উচিত সে বিষয়ে ন্যূনতম লজ্জা বা জ্ঞান থাকা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া রাবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়া শুভ আম্মারের কমেন্টের স্কিনশট শেয়ার করে লিখেছেন—ছাত্র সংগঠনগুলোর কাজগুলো কী কী কেউ বিস্তারিত জানালে জানাতে পারবেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ব্যক্তি বিশেষের মন্তব্যে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। এ বিষয়ে জানতে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে। সাংবাদিক পরিচয় দিলে কলটি রিসিভকারী ব্যক্তি জানান ‘আম্মার ভাই খেয়ে গেছেন’। পুনরায় বিষয়টি জানতে চাইলে কিছুক্ষণ চুপ থেকে একই ধরনের উত্তর দেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই প্রতিবেদন লেখার সময় একাধিকবার কল করা হলেও সালাউদ্দিন আম্মার কল রিসিভ করেননি।