ইকো পার্কের ওয়াকওয়ে এক বছরে ধসে: নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন
রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সরমংলা খাড়ি এলাকার ইকো পার্কে নির্মিত ওয়াকওয়ের প্রায় ২০ মিটার অংশ টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেবে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিএমডিএ বলছে, আলাদা বাজেট ছিল না; ঠিকাদারের জামানতের টাকায় দ্রুত সংস্কার করা হবে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সরমংলা খাড়ি এলাকার ইকো পার্কে নির্মিত একটি ওয়াকওয়ে এক বছর না পেরোতেই দেবে গেছে। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টির প্রভাবে ওয়াকওয়ের প্রায় ২০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) সরমংলা খাড়িকে ইকো পার্ক হিসেবে গড়ে তুলেছে। পদ্মা নদী থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি এনে খাড়িতে প্রবাহিত করার পাশাপাশি এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ হিসেবে প্রায় এক বছর আগে খাড়ির পাশে গাইডওয়াল এবং টাইলস বসানো ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়।
টানা বৃষ্টির প্রভাবে গাইডওয়ালের একটি অংশ ধসে খাড়ির দিকে হেলে পড়ে। এর ফলে সংযুক্ত ওয়াকওয়েরও প্রায় ২০ মিটার অংশ দেবে যায়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশের আশপাশে একাধিক ফাটল দেখা দিয়েছে, যা আরও ধসের আশঙ্কা তৈরি করছে।
রোববার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওয়াকওয়ের বড় একটি অংশ নিচে নেমে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যেই এ ধরনের পরিস্থিতির পেছনে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও ত্রুটিপূর্ণ কাজের বিষয় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গাইডওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের জন্য আলাদা কোনো প্রকল্প বা বরাদ্দ ছিল না। বিএমডিএর একটি পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্পের আওতায় কাজ পাওয়া রাজশাহীর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্তভাবে এ নির্মাণকাজও দেওয়া হয়। প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় এক বছর আগে কাজটি শেষ হয়।
এ বিষয়ে বিএমডিএর গোদাগাড়ী জোন-১-এর সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, ওয়াকওয়ে ও গাইডওয়াল নির্মাণের জন্য আলাদা বাজেট ছিল না। সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে অন্য একটি প্রকল্পের ঠিকাদারকে দিয়ে কাজটি করানো হয়েছিল। টানা বৃষ্টিতে প্রায় ২০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ঠিকাদারের জামানতের টাকা এখনো বিএমডিএর কাছে রয়েছে। তিনি জানান, ওই টাকা দিয়েই দ্রুত সংস্কারকাজ করানো হবে।


