ঘুম থেকে ওঠার ১ ঘণ্টার মধ্যে নাস্তা—আসলেই কি জরুরি?
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে নিয়ম—ঘুম থেকে ওঠার এক ঘণ্টার মধ্যে সকালের নাস্তা না খেলে ক্ষতি হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবার জন্য একই ৬০ মিনিটের বাধ্যতামূলক সময়সীমা নেই; ব্যক্তিভেদে শরীরের চাহিদা ও খাবারের মান বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সকালের নাস্তা সাধারণভাবে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন একটি নিয়মও জনপ্রিয় হয়েছে—ঘুম থেকে ওঠার এক ঘণ্টার মধ্যে নাস্তা খেতে হবে, নইলে স্বাস্থ্যের ক্ষতির ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, সত্যিই কি এমন কোনো জাদুকরী ৬০ মিনিটের সময়সীমা আছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিষয়টি একাধিক বিষয়ের উপর নির্ভর করে এবং তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে ঘুম থেকে উঠেই ক্ষুধা লাগে, ফলে দ্রুত খাবারের প্রয়োজন দেখা দেয়। আবার অন্যদের ক্ষেত্রে প্রথম খাবারের আগে আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেও তেমন অসুবিধা হয় না।
ঘুমের সময় শরীর পুরোপুরি বন্ধ থাকে না। সারারাত ধরে শরীর শ্বাস-প্রশ্বাস, কোষ মেরামত, হরমোন নিয়ন্ত্রণ এবং হৃৎস্পন্দন সচল রাখার মতো কাজ চালিয়ে যায়। যেহেতু ঘুমের সময়ে খাবার গ্রহণ করা হয় না, তাই এসব কাজের জন্য শরীর সঞ্চিত শক্তির ওপর নির্ভর করে।
সকালের দিকে রক্তে শর্করার মাত্রা আগের সন্ধ্যার তুলনায় কিছুটা কম থাকতে পারে। কারও ক্ষেত্রে এতে ক্ষুধা, ক্লান্তি বা শক্তি কমে যাওয়ার মতো অনুভূতি হতে পারে। বিপরীতে অনেকেই খাবার ছাড়াই সতেজ ও উদ্যমী বোধ করে ঘুম থেকে উঠেন। এ কারণেই সকালের নাস্তার সময় নির্ধারণে ঘুম থেকে ওঠার এক ঘণ্টার মতো কঠোর মানদণ্ড সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সকালের নাস্তা মস্তিষ্ক ও পেশীগুলোকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। এটি মনোযোগ বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজে শক্তি যোগায়। তবে নাস্তা খাওয়ার প্রয়োজনীয় সময় সবার ক্ষেত্রে একরকম নয়—কেউ কেউ উঠেই ক্ষুধার্ত হন, কেউ আবার কিছুক্ষণ পর ক্ষুধা অনুভব করেন। তাই সকালে ক্ষুধা লাগা মূলত ব্যক্তিগত ব্যাপার।
এক ঘণ্টার নিয়মটি কি বিজ্ঞানসম্মত—এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, সার্বজনীন এমন কোনো বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই যা বলে ঘুম থেকে ওঠার এক ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যেককে খেতেই হবে। একটি বৃহৎ সমীক্ষায় দেখা গেছে, বয়স, বিপাকক্রিয়া এবং বিদ্যমান স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে সকালের নাস্তার সময় ও অভ্যাস ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা কখন নাস্তা খাচ্ছি তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত আমরা কী খাচ্ছি। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা স্বাভাবিক—এটিও বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি। কেউ কেউ উঠেই ক্ষুধা অনুভব করেন, আবার অন্যরা পরে ক্ষুধা পান। তাই কেবল ঘড়ির নির্দেশনা মেনে খাওয়ার বদলে নিজের শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


