বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · সত্য • সাহস • সংবাদ📍 আপনার এলাকা: রাজশাহী
রাজশাহী নিউজ
সর্বশেষরাজশাহী ও বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ জানতে সঙ্গে থাকুন

গরু কুরবানি ঈদুল আজহার বাধ্যতামূলক অংশ নয়: কলকাতা হাইকোর্ট

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গবাদিপশু কুরবানি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আদেশ বাতিলের আবেদন খারিজ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, গরু কুরবানি ঈদুল আজহারের অপরিহার্য অংশ নয় এবং ধর্মীয়ভাবে বাধ্যতামূলকও নয়।

গরু কুরবানি ইসলামের অংশ নয়
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গবাদিপশু কুরবানি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আদেশ বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পল এবং বিচারপতি পার্থ সারথী সেনর বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করে, গরু কুরবানি ঈদুল আজহারের অপরিহার্য অংশ নয় এবং ইসলামে এটি ধর্মীয়ভাবে বাধ্যতামূলকও নয়। একাধিক জনস্বার্থ মামলায় রাজ্য সরকারের আদেশ বাতিল ও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চাওয়া হলেও আদালত সে আবেদন গ্রহণ করেনি। তবে একইসঙ্গে আদালত পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি বিষয় বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে। সেটি হলো, ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ পশু কুরবানি নিয়ন্ত্রণ আইনের ১২ নম্বর ধারার আওতায় ধর্মীয়, ওষুধ বা গবেষণার প্রয়োজনে নিষিদ্ধ পশু কুরবানির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না। ঈদ উপলক্ষে সময় স্বল্পতার বিষয়টিও আদালত বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলে। এ ছাড়া খোলা স্থানে পশু কুরবানি নিষিদ্ধ করার শর্ত যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে আদেশ জারি করে, সেখানে ১৯৫০ সালের আইন এবং ২০১৮ সালে হাইকোর্টের দেওয়া একটি রায়ের উল্লেখ করা হয়। ওই আদেশে বলা হয়, ‘কুরবানির উপযুক্ত’ সনদ ছাড়া গরু ও মহিষ কুরবানি করা যাবে না। আইনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য যুক্তি দেন, আইনটি মূলত কলকাতা ও অন্যান্য পৌরসভার জন্য প্রণীত হয়েছিল, পুরো পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়। তবে আদালত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি। কলকাতা পৌরসংস্থার আইনজীবী নীলোৎপল চ্যাটার্জি জানান, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোসহ নির্ধারিত জবাইখানা এবং সনদ প্রদানের ব্যবস্থা তাদের রয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণে আরও জানায়, সনদ প্রদানের যথাযথ ব্যবস্থা রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাজ্যের। কোনো ঘাটতি থাকলে দ্রুত তা সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিচারকরা। সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া