জাতির ইতিহাস ও মর্যাদাবোধে অসম্মান: সম্মানই মূল শিক্ষা
এম বদরুল হাসান বলেন, সম্মান পারস্পরিক; অন্যকে অবজ্ঞা বা অপমান করলে শেষ পর্যন্ত নিজের সম্মানও কমে। রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম জড়িয়ে পাবলিক টয়লেট উদ্বোধনের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রতিবাদ ও নিন্দা ওঠে।

এম বদরুল হাসান মনে করেন, সম্মান মানুষের অন্যতম বড় মানবিক গুণ। সমাজে মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা পেতে হলে আগে অন্যকে সম্মান করা শেখা জরুরি। কারণ সম্মান একমুখী নয়; এটি পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। যে ব্যক্তি অন্যকে অবজ্ঞা করে, অপমান করে বা ছোট করে দেখে, সে শেষ পর্যন্ত নিজের সম্মানও হারায়। সমাজও মানুষের আচরণ দেখে তাকে মূল্যায়ন করে।
দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রেই বিষয়টি দেখা যায়। রাজনৈতিক অঙ্গনে কেউ যদি কর্মীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব না দেন, তাহলে শুরুতে পদমর্যাদার কারণে সম্মান পাওয়া গেলেও পরে কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা কমে। এতে রাজনৈতিক পরিবেশও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। অন্যদিকে নেতা যদি কর্মীদের মতামতকে মূল্য দেন এবং সৌজন্য ও শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখেন, তাহলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই সবার সম্মান অর্জন করেন; নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে ওঠে।
পারিবারিক জীবনেও সম্মানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যে সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে এবং বড়দের মর্যাদা দেয়, সমাজেও সে সম্মান পায়। একইভাবে সমাজের অন্যদের মর্যাদা দেয়, মানুষের পাশে দাঁড়ায় এবং মানবিক আচরণ করে—এমন ব্যক্তিকেও সমাজ শ্রদ্ধার চোখে দেখে। অর্থাৎ অন্যকে সম্মান করাই সম্মান পাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায়।
এই বাস্তবতার আলোকে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজশাহীতে একটি ঘটনা অনেককে ভাবিয়ে তুলেছে। রাজশাহীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম জড়িয়ে একটি পাবলিক টয়লেট উদ্বোধনের ঘটনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। বিষয়টি অনেকের কাছে কেবল অরুচিকর নয়, জাতির ইতিহাস ও মর্যাদাবোধের প্রতি অসম্মান বলেও বিবেচিত হয়েছে।
মার্চ মাস নিয়ে স্মরণ করা হয়, এই মাসেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক আহ্বানে বাঙালিরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার পথে যাত্রা শুরু করেছিল। সেই জাগরণের মাসেই এমন ঘটনার খবর মানুষের মনে কষ্ট ও ক্ষোভ তৈরি করেছে। কারণ ইতিহাসের মহান ব্যক্তিত্বদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো একটি জাতির সভ্যতা ও মূল্যবোধের প্রতিফলন।
ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে এ ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে। অনেকের মতে, ইতিহাস, মর্যাদা এবং শ্রদ্ধাবোধ রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাস ও মূল্যবোধের প্রতি সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
সর্বশেষভাবে বলা হচ্ছে, ব্যক্তি জীবনের মতো জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সম্মানবোধ গুরুত্বপূর্ণ। অন্যকে সম্মান করতে পারলে নিজের সম্মানও রক্ষা করা সম্ভব। পাশাপাশি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মহান ব্যক্তিত্বদের প্রতিও যথাযথ মর্যাদা প্রদর্শন করতে হবে। কারণ সম্মানই মানুষ ও জাতির প্রকৃত পরিচয় গড়ে দেয়।


