মৃত্যুর আগে জটিল মানসিক রোগে ভুগছিলেন ম্যারাডোনা
ম্যারাডোনার মৃত্যু ঘিরে বুয়েন্স আয়ার্সে চলমান মামলার শুনানিতে মনোবিদ কার্লোস দিয়াজ জানান, মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনার মধ্যে বাইপোলার ডিসঅর্ডারসহ জটিল মানসিক সমস্যার লক্ষণ ছিল এবং তিনি আত্মতৃপ্তিমূলক (নার্সিসিস্ট) ব্যক্তিত্বের অধিকারী।

আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বুয়েন্স আয়ার্সে চলমান মামলার শুনানিতে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। আদালতে মনোবিদ কার্লোস দিয়াজ বলেন, মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনা জটিল মানসিক রোগে ভুগছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ম্যারাডোনার মধ্যে বাইপোলার ডিসঅর্ডারসহ জটিল মানসিক সমস্যার লক্ষণ ছিল এবং তিনি আত্মতৃপ্তিমূলক (নার্সিসিস্ট) ব্যক্তিত্ব প্রদর্শন করতেন।
দিয়াজ আরও জানান, ম্যারাডোনার জন্য সম্পূর্ণ অ্যালকোহলবিহীন চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রয়োজন ছিল। তবে তার জীবনযাপন ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের জটিলতা ছিল বলেও তিনি আদালতে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, প্রসিকিউশন পক্ষের অভিযোগ—ম্যারাডোনার চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা দলের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ভুল ওষুধ প্রয়োগের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
দিয়াজ আদালতে বলেন, ২০২০ সালের ২৬ অক্টোবর প্রথমবার তার ম্যারাডোনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় এবং এর মাত্র ২৯ দিন পর কিংবদন্তি ফুটবলার মারা যান। তিনি দাবি করেন, ওই সময় ম্যারাডোনা অ্যালকোহল সেবন করছিলেন এবং তার জীবনধারা পরিবর্তন করতে চাওয়ার পর সেই অনুযায়ী একটি চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল।
মামলায় আরেক অভিযুক্ত নিউরোসার্জন লিওপোলদো লুকে জানান, ম্যারাডোনার বাসায় চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল যথাযথ। তবে সেটি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হওয়ার জন্য তৈরি ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ম্যারাডোনা। এর আগে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা ফুটবলার আর্জেন্টিনা ও বিশ্ব ফুটবলে এখনো ‘ফুটবল ঈশ্বর’ হিসেবে পরিচিত।


