সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ · সত্য • সাহস • সংবাদ📍 আপনার এলাকা: রাজশাহী
রাজশাহী নিউজ
সর্বশেষরাজশাহী ও বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ জানতে সঙ্গে থাকুন

নতুন নবম পে-স্কেলে যেসব কর্মচারীরা বেশি সুবিধা পেতে পারেন

নবম জাতীয় পে-স্কেল প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। প্রস্তাবিত কাঠামোতে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো গড়ার লক্ষ্য নিয়েছে এবং জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হচ্ছে।

নতুন পে-স্কেলে বেশি সুবিধা পাবেন যারা
নবম জাতীয় পে-স্কেল প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলেছে। প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধার বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমিয়ে আরও ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। নতুন কাঠামোর আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। সূত্রের মতে, নতুন পে-স্কেলের ক্ষেত্রে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় সহায়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বেতন কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়েও প্রস্তাবিত সুবিধার কথা বলা হয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্যও সমন্বিত বেতন কাঠামো ও নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২১ মে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে পুনর্গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশন, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করা হয়। এ বৈঠকে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় এবং বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ চূড়ান্ত করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। সূত্র জানায়, তিনটি প্রতিবেদনের মধ্যে দুটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে; বেতন বৃদ্ধি, ভাতা কাঠামো এবং সরকারের বাজেট সক্ষমতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তৃতীয় প্রতিবেদনটি পরবর্তী বৈঠকে আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আগস্ট বা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা কার্যকর ধরা হবে। পরে গেজেট প্রকাশ হলে চাকরিজীবীরা জুলাই মাস থেকে বকেয়াসহ বর্ধিত সুবিধা পাবেন। সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর এক দশকের বেশি সময় পার হয়েছে। এ সময়ে খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবহন ব্যয়সহ প্রায় সব খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত আয় কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের ওপর চাপ বেশি পড়েছে বলে সূত্র জানায়। বর্তমানে দুটি বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রথম প্রস্তাবে অধিকাংশ গ্রেডের মূল বেতন প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী চতুর্থ গ্রেডের অধ্যক্ষদের বর্তমান ৫০ হাজার টাকার মূল বেতন ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক ৫৩ হাজার ২৫০ টাকায় উন্নীত হতে পারে। একইভাবে সপ্তম গ্রেডের প্রধান শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষদের মূল বেতন ২৯ হাজার টাকা থেকে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। নবম গ্রেডের প্রভাষকদের ক্ষেত্রেও ২২ হাজার টাকা থেকে ৩৩ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা। এই প্রস্তাব অনুযায়ী ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন দ্বিগুণ করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এতে ১১তম গ্রেডের শিক্ষকদের বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার মূল বেতন ২৫ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারীদের ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ১৮ হাজার ৬০০ টাকায় এবং ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়কদের ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ১৬ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় চাপ বহন করছেন নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা। তাই নতুন পে-স্কেলে তাদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে কোন প্রস্তাব চূড়ান্ত হবে—সেই বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতনসংক্রান্ত সুপারিশ পর্যালোচনার পর সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। অন্যদিকে আগামী ৭ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ওই দিন বিকেল ৩টায় অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন।