পাসপোর্ট সূচকে ৩ ধাপ এগোল বাংলাদেশ, ৯৭তম অবস্থান
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ ৩ ধাপ এগিয়ে এখন ৯৭তম। গত বছর ছিল ১০০তম। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে এই অবস্থান।

বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টের সর্বশেষ সূচকে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স ২০২৬-এ বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৭তম। গত বছর ১০০তম স্থানে থাকা বাংলাদেশ এবার উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত এ সূচকে বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্যে ভিসামুক্ত ও অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধার ভিত্তিতে র্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়েছে। সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে ৩৫টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই অথবা গন্তব্যে পৌঁছে অন-অ্যারাইভাল ভিসার মাধ্যমে ভ্রমণ করতে পারবেন। একই সুবিধা পাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার নাগরিকরাও।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালদ্বীপ সবচেয়ে এগিয়ে আছে, যার অবস্থান ৪৯তম। অন্যদিকে বাংলাদেশ রয়েছে নেপাল (৯৮তম), পাকিস্তান (১০১তম) এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান (১০৪তম)-এর ওপরে। সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান, যেখানে দেশটির নাগরিকরা মাত্র ২২টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন।
সেরা ১০ শক্তিশালী পাসপোর্ট হিসেবে সিঙ্গাপুর শীর্ষে—১৯২টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা। তালিকার পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—১৮৮টি গন্তব্য; সুইডেন—১৮৭টি গন্তব্য; এবং বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও স্পেন—১৮৬টি গন্তব্য। এছাড়া অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা, পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড—১৮৫টি; হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য—১৮৪টি; অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, লাটভিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া—১৮৩টি; ক্রোয়েশিয়া ও এস্তোনিয়া—১৮২টি; লিচেনস্টেইন ও লিথুয়ানিয়া—১৮১টি; এবং আইসল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র—১৮০টি গন্তব্য।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সুবিধায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেও বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবধান এখনও বেশি। ভবিষ্যতে আরও বেশি দেশের সঙ্গে ভিসা-সহজীকরণ ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হলে বাংলাদেশের পাসপোর্টের শক্তিমত্তা আরও বাড়তে পারে।


