রাজশাহীতে ‘ম্যাঙ্গো লাভার’ অফিসে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
রাজশাহীর ‘ম্যাঙ্গো লাভার’ অফিসে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে পবা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী। অভিযোগে মুরাদ পারভেজ ও শের আলী দুলালের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে মুরাদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটি মিথ্যা এবং বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে মতবিরোধের প্রেক্ষিতে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তদন্ত চলছে।

রাজশাহীর ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাঙ্গো লাভার’-এর অফিসে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তরুণী পবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মুরাদ পারভেজ এবং তার বন্ধু শের আলী দুলালের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগীর বাড়ি জয়পুরহাট। তিনি রাজশাহীর একটি কলেজের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে অভিযুক্ত শের আলী দুলালের বাড়ি ঢাকার উত্তরায়। অভিযোগে বলা হয়, ভুক্তভোগীর সঙ্গে শের আলী দুলালের বিয়ের আলোচনা চলছিল। ২১ জুলাই শের আলী ঢাকা থেকে রাজশাহী আসেন এবং পরে ভুক্তভোগী ও তার ছোট বোনের সঙ্গে বিয়ের কেনাকাটা সম্পন্ন করা হয়।
কেনাকাটা শেষে তারা পবা উপজেলার নওহাটা বাজারে অবস্থিত ‘ম্যাঙ্গো লাভার’ অফিসে যান। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, একটি কক্ষে শের আলী দুলাল বিয়ের আগেই ওই তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। একই সময়ে মুরাদ পারভেজ একটি এটিএম বুথে ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, পরে মুরাদ পারভেজ ফিরে এলে শের আলী দুলাল বিয়ে করবেন না বলে সেখান থেকে চলে যান। এরপর মুরাদ পারভেজও ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় ওই তরুণী ‘ম্যাঙ্গো লাভার’ অফিস থেকেই পরিবারের সদস্যদের ফোন করেন। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মুরাদ পারভেজও সেখান থেকে চলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন ও পবা থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্যদিকে, মুরাদ পারভেজ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, শের আলী দুলাল ওই তরুণীকে বিয়ে করতে রাজশাহী এসেছিলেন। এরপর তরুণীর টিকটক কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পেরে বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন বলে তার বক্তব্য। এ বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মুরাদ পারভেজ বলেন, “ধর্ষণের চেষ্টার কোনো ঘটনা ঘটেনি। অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
পবা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশিকুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি।


