সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ · সত্য • সাহস • সংবাদ📍 আপনার এলাকা: রাজশাহী
রাজশাহী নিউজ
সর্বশেষরাজশাহী ও বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ জানতে সঙ্গে থাকুন

রাজশাহীর চারঘাটে সরকারি আম ভাগ-বাঁটোয়ারা, ক্ষোভ

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে থাকা প্রায় ৩০টি আমগাছের ফল নিলামে না তুলে কর্মকর্তারা ভাগ করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

রাজশাহীতে সরকারি আম ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিলেন কর্মকর্তারা
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে থাকা প্রায় ৩০টি আমগাছের ফল এবারও প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি না করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ বিষয়ে এলাকাজুড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। স্থানীয়রা জানান, আম পাকার মৌসুমে সাধারণত ছুটির দিনে গাছ থেকে আম নামানো হয়। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনে নিয়ে গিয়ে অফিসার্স সমিতির মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তা ভাগ করা হয়। তাদের অভিযোগ, অনেকেই এসব আম নিজেদের আত্মীয়স্বজনের কাছেও নিয়ে যান। এ বছরও একই প্রক্রিয়ায় শুক্রবার সকালে আম নামানো শুরু হয়। শুক্রবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন দপ্তরের সামনে থাকা প্রায় ৩০টি আমগাছ থেকে আম পাড়া হচ্ছে। দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা জানান, আমগুলো নামিয়ে ইউএনওর বাংলোয় নেওয়া হবে এবং পরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। তারা দাবি করেন, ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌসের নির্দেশেই এভাবে আম নামানোর কাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রতি বছর অফিস বন্ধের দিনগুলোতেই এভাবে আম সংগ্রহ করা হয়। চলতি মৌসুমেও একই পদ্ধতিতে গাছ থেকে আম নামানো হচ্ছে এবং অনেক গাছে একাধিক দফায় আম নামানো হয়েছে বলে তাদের বক্তব্য। তারা আরও জানান, স্থানীয়দের এসব আম সংগ্রহ বা দেখার সুযোগ দেওয়া হয় না। এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জামিলুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, প্রতি বছর সরকারি সম্পদ এভাবে ভাগাভাগি করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা, এবং প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ বা এতিমখানার মধ্যেও বিতরণ করা যেতে পারে। এদিকে জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি গাছের ফল এভাবে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী ফল পরিপক্ব হলে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করতে হয় এবং সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে বিক্রি করে সেই অর্থ সরকারি তহবিলে জমা দিতে হয়। তবে ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এসব আম কখনো বিক্রি করা হয় না; বরং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। প্রকাশ্য নিলামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উল্লেখ করেন, এভাবে বিক্রি করার নিয়ম নেই এবং এটি দীর্ঘদিন ধরেই এভাবেই হয়ে আসছে।