রামেক হাসপাতালে ১০০ শয্যা বাড়লো, স্বীকৃতি পেল আইসিইউ
দীর্ঘ ১৩ বছর পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ে উন্নীত করার প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। এর মাধ্যমে আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের লক্ষ্যে বর্ধিত শয্যায় সেবা চালুর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান আইসিইউ সুবিধার ৪৬টি শয্যা সরকারিভাবে আইসিইউ হিসেবে গণ্য হবে এবং নতুন করে আরও ৫৪টি শয্যা যুক্ত হবে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক)–এ শয্যা বৃদ্ধি ও আইসিইউ ইউনিট স্বীকৃতির বিষয়ে প্রশাসনিক অনুমোদন এসেছে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ সোমবার ১০০ শয্যা বৃদ্ধির অনুমোদন দেয়। এর ফলে হাসপাতালটির মোট শয্যাসংখ্যা ১ হাজার ২০০ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩০০ হবে এবং আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের লক্ষ্যে বর্ধিত শয্যায় সেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ সোমবার এ বিষয়ে একটি চিঠি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠান। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, যাবতীয় বিধি-বিধান ও নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে প্রতিপালনের শর্তে হাসপাতালকে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং বর্ধিত শয্যায় সেবা কার্যক্রম চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করা হলো।
সবশেষ ২০১৩ সালে হাসপাতালটিতে শয্যা বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০টি করা হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল হলেও এত দিন সরকারের অনুমোদিত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ছিল না। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা পর্ষদের অনুমোদনে স্বল্প পরিসরে আইসিইউ সেবা চালু থাকলেও নতুন অনুমোদনের মাধ্যমে সরকারিভাবে আইসিইউ সুবিধা কার্যকর হবে।
আইসিইউ ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অনুমোদিত আইসিইউ পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। হাসপাতালটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইতিমধ্যে আইসিইউর ৪৬টি শয্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১২টি, বয়স্ক রোগীদের জন্য ১৬টি, শিশুদের জন্য ১২টি এবং জটিল অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা রোগীদের জন্য ৬টি শয্যা রয়েছে। এসব শয্যা এখন থেকে সরকারের অনুমোদিত আইসিইউ শয্যা হিসেবে গণ্য হবে।
এছাড়া নতুন করে আরও ৫৪টি শয্যা চালু হবে। গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের জন্য ১৫টি, নবজাতক শিশুদের জন্য ১০টি, ক্যানসার বা অন্যান্য জটিল রোগীদের জন্য ১০টি এবং ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) রোগীদের জন্য ১৯টি শয্যা সংরক্ষিত থাকবে। নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে মোট ১০০ শয্যার আইসিইউ সুবিধা হবে।
এই অনুমোদনের পর ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ১৫ বছরের প্রচেষ্টা। ২০১১ সাল থেকে সকল প্রকার চেষ্টা-তদবির করেও পারিনি। বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের মধ্যেই সফলতা এল।’
যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘অবশেষে আমরা অনুমোদিত আইসিইউ পেলাম। এখন সরকারের অনুমোদন থাকার কারণে আইসিইউর রোগীদের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ হবে। তারা আরও ভাল সেবা পাবেন। এই অনুমোদন পেতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। সাংবাদিকদের অবদানও কম নয়। তারা সমস্যাগুলো তুলে ধরেছেন বলেই সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে।’


