রাবির রিডিং রুমে মারধর: দুই পক্ষের অভিযোগ-প্রতিআরোপ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির রিডিং রুমে তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে এ ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী আহত হন; তাদের মধ্যে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আনাস ও মাহমুদুল হাসান রয়েছেন। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির রিডিং রুমে ঢুকে তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে এ ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আনাস ও মাহমুদুল হাসান রয়েছেন। অপর আহতের পরিচয় জানা যায়নি। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। তবে রাকসুর দাবি, প্রক্টর দপ্তরে সংঘটিত একটি ঘটনার পর আনাস ও তার সহযোগীদের রাকসু কার্যালয়ে হামলার জেরেই পরবর্তী এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, রোববার রাতে ‘অস্ত্রের মুখে প্রেমে রাজি করানোর চেষ্টা’র অভিযোগ নিয়ে এক শিক্ষার্থী প্রক্টর দপ্তরে যান। এ সময় সংস্কৃত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মহসিন আলমের অভিভাবক পরিচয়ে সেখানে উপস্থিত হন আনাস। এ সময় প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে তার অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে।
পরদিন সোমবার উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, বৈঠকে উপস্থিত হলে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী আনাসকে চড়-থাপ্পড় দেন। পরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আনাসকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও প্রক্টর তাকে ছেড়ে দেন বলে দাবি করেন রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার। এ পরিপ্রেক্ষিতে আনাস ও তার সহযোগীরা রাকসু কার্যালয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। এতে রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস শাকিব আহত হন।
সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, তারা রাকসু কার্যালয়ে বৈঠক করছিলেন; এ সময় অন্য পক্ষ অতর্কিত হামলা চালিয়ে তথ্য ও গবেষণা সম্পাদককে আহত করে পালিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, হামলার পর প্রক্টর আনাস ও তার সহযোগীদের লাইব্রেরির রিডিং রুমে ঢুকিয়ে বাইরে তালা লাগিয়ে দেন। তাদের বের করে আনার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আম্মারের দাবি, আইনের হাতে তুলে দিয়েও কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে—রাকসু কার্যালয়ের ঘটনার পর আনাস ও তার সঙ্গীরা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির রিডিং রুমে আশ্রয় নিলে সেখানে ঢুকে তাদের মারধর করা হয়। অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময়ও রাকসু ও শিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের আবার মারধর করেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, তারা শিবিরের পরিচয়ে আসেননি; রাকসু নেতাদের ওপর হামলার খবর শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং সেখানে এমন পরিস্থিতি দেখতে পান।
লাইব্রেরিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় ছাত্রদলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও নাকচ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ। তিনি বলেন, ছাত্রদলের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং কয়েকবার তাদের ছাত্রদলের মিছিল-সমাবেশে দেখা গেছে।
তবে লাইব্রেরির ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদল তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে বলে জানান সোহাগ। তার দাবি, শিবির লাইব্রেরিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের মারধর করে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করতে চায় এবং এ কারণে তারা বিক্ষোভ করেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সভায় রয়েছেন বলে সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়ে ফোন কেটে দেন। ঘটনার পর থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


